মোবাইল ফোন কি সত্যিই ব্রেন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়? - Rajbari News | রাজবাড়ী নিউজ | ২৪ ঘন্টাই সংবাদ

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Thursday, December 6, 2018

মোবাইল ফোন কি সত্যিই ব্রেন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়?

২০১৮ সালের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৬২.৯ শতাংশ মানুষের মোবাইল ফোন আছে। আর বলা হচ্ছে যে, ২০১৯ সালের মধ্যে এই হার ৬৭ শতাংশে উন্নীত হবে। স্মার্টফোনের জনপ্রিয়তার কারণে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে। মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের ৫০ শতাংশই স্মার্টফোন ব্যবহার করেন।
শুধু তাই না। গত কয়েক দশকে লোকে তাদের ফোনে যে পরিমাণ সময় ব্যয় করেন তার পরিমাণও বেড়েছে। এই প্রযুক্তিটির আবিষ্কার একটি আশীর্বাদ হলেও এটি এর সঙ্গে বেশ কিছু ক্ষতিও বয়ে এনেছে। এর সবচেয়ে মারাত্মক যে ক্ষতিটি হতে পারে তা হলো ব্রেন ক্যান্সার। কথাটি শুনে কি ভয় পেয়ে গেছেন?
মোবাইল ফোন থেকে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ওয়েভ নামের এক ধরনের শক্তি বের হয়। এখন প্রশ্ন হলো, এই ওয়েভ বা তরঙ্গ কি মস্তিষ্ক বা ঘাড়ের চারপাশে টিউমার সৃষ্টির কারণ হতে পারে? আসুন জেনে নেওয়া যাক…
মোবাইল ফোন কীভাবে কাজ করে?
রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ওয়েভ ব্যবহার করে কাছের কোনো টাওয়ার থেকে সিগনাল গ্রহণ এবং প্রেরণের মাধ্যমে কাজ করে মোবাইল ফোন। এই ওয়েভগুলো ইলেকট্রোম্যাগনেটিক শক্তি এবং নন-আয়োনাইজিং রেডিয়েশন এর রুপে কাজ করে। যদিও এই তরঙ্গগুলো এক্স রে এবং অতিবেগুনি রশ্মির মতো কোষের ভেতরকার ডিএনএ ভাঙার মতো শক্তিশালী নয় তথাপি উচ্চ-মাত্রার রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি দেহের টিস্যুকে উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।
রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ওয়েভ কীভাবে ক্ষতিকর?
ফোনের এন্টেনা থেকে আসে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ওয়েভ। আর অ্যান্টেনাতেই এই তরঙ্গ সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী। এটি আমরা যে ফোনটি হাতে ব্যবহার করি তার অংশ। কথা বলার সময় ফোনের অ্যান্টেনা কান এবং ঘাড়ের কাছাকাছি চলে আসায় দেহের টিস্যুগুলো আরো বেশি তরঙ্গ শুষে নেয়।
কতটা ফ্রিকোয়েন্সি শুষে নেবে আপনার কান বা ঘাড়ের টিস্যুগুলো তা নির্ভর করছে:
১. আপনি ফোনে কতক্ষণ কথা বলছেন
২. আপনি স্পিকার মোড নাকি হেডফোন ব্যবহার করছেন তার ভিত্তিতে আপনার দেহের টিস্যুগুলো কতটা রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি শুষে নিবে তাতে হেরফের হয়
৩. সবচেয়ে কাছের টাওয়ার এবং আপনার সেল ফোনের মধ্যকার দূরত্ব অনুযায়ী সিগনাল দুর্বল বা শক্তিশালী হবে। দূরত্ব বেশি হলে সিগনাল পেতে আরো বেশি শক্তি দরকার হবে। এবং টিস্যুও বেশি ফ্রিকোয়েন্সি শুষে নিবে
৪. ফোনের মডেলের ভিত্তিতেও শক্তির পারিমাণে হেরফের হয়। কারণ ভিন্ন ভিন্ন মডেল ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণ শক্তি নিঃসরণ করে।
সেলফোন এবং ব্রেন ক্যান্সার
সেলফোন যদি মাথার খুব কাছাকাছি ধরা হয় তাহলে কি তা থেকে ক্যান্সার হওয়ার মতো টিউমার হতে পারে নাকি সাধারণ টিউমার হতে পারে?
গবেষণাগারের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় পশুদের ওপর রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি প্রয়োগ করে দেখা গেছে, রেডিও তরঙ্গগুলো যদি খুব বেশি শক্তিশালী না হয় এবং ডিএনএ ভাঙতে না পারে তাহলে তাতে ক্যান্সার হয় না। কিন্তু আরো কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এই রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি কোষগুলোকে একটা পর্যায় পর্যন্ত ক্ষতিসাধন করতে পারে এবং এ থেকে টিউমারও হতে পারে।
মানুষের ওপর চালানো কিছু গবেষণায়ও দেখা গেছে, মস্তিষ্কে টিউমার হওয়ার পেছনে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তবে এই বিষয়ে কোনো চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে এখনো আরো প্রচুর পরিমাণ সাক্ষ্য-প্রমাণ লাগবে।
উদাহরণত, যাদের ব্রেন টিউমার হয়েছে এমন লোকরা অন্যদের চেয়ে বেশি সময় ধরে ফোন ব্যবহার করেছেন বলে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আর মাথার যে পাশে মোবাইল ধরে রেখে কথা বলেছেন তারা সেখানে কোনো ব্রেন টিউমার দেখা যায়নি।

Post Top Ad

Responsive Ads Here